1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

ইতিকাফের আমল ও তার ফজিলত : আতাউর রহমান

আতাউর রহমান | প্রধান প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ, ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

♦ ইতিকাফ কী?
ইতিকাফ হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মসজিদে অবস্থান করা এবং ইবাদতে মনোযোগী হওয়া। সাধারণত রমজান মাসের শেষ দশ দিনে সুন্নাত মোয়াক্কাদা ইতিকাফ করা হয়।

♦ ইতিকাফের ফজিলত ও গুরুত্ব:
১. নবিজির (সা.) সুন্নাত: হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশ দিন নিয়মিত ইতিকাফ করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৬)।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশদিন ইতিকাফ করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরা পালন করার সওয়াব দান করা হবে। (শুয়াবুল ঈমান, হাদিস : ৩৬৮০)

২. লাইলাতুল কদরের সন্ধান: ইতিকাফের মাধ্যমে মানুষ লাইলাতুল কদরের বরকত লাভের সুযোগ পায়।

৩. গুনাহ মাফ ও তাকওয়ার শিক্ষা: ইতিকাফ ব্যক্তি জীবনকে পবিত্র করে এবং তাকওয়া অর্জনের সহায়ক হয়।

৪. ইবাদতে মনোযোগ: দুনিয়ার কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মশগুল হওয়ার সুযোগ মেলে।

৫. দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত: ইতিকাফরত ব্যক্তি আল্লাহর খুব কাছাকাছি থাকার সুযোগ পায়, ফলে তার দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

♦ইতিকাফে মসজিদের সম্মান বজায় রাখা:
মসজিদ আল্লাহর ঘর। এ ঘরের মর্যাদা দুনিয়ার সকল ঘর থেকে বেশি। এ জায়গার সম্মান অন্য সকল জায়গার চেয়ে অধিক। হাদিস শরিফে এসেছে-

আল্লাহ তায়ালার কাছে সবচাইতে প্রিয় জায়গা হল মসজিদ। সবচাইতে অপ্রিয় জায়গা বাজার। – (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৬৭১)

ইতিকাফের সময় মানুষ যেহেতু এই পবিত্র মর্যাদাপূর্ণ স্থানেই অবস্থান করে, তাই এ ঘরের সম্মান ও মর্যাদার কথা সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে স্মরণ রাখা উচিত।

হাদিস শরিফে মসজিদকে পবিত্র রাখার বিষয়েও জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। (দ্র. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৫৫)

তাই নিজের কারণে যেন মসজিদে কোনো অপবিত্রতা সৃষ্টি না হয় সেদিকে সযত্ন খেয়াল রাখা।

♦ইতিকাফের ধরন:
১. ওয়াজিব ইতিকাফ: মান্নত করলে পালন করতে হয়।
২. সুন্নাত মোয়াক্কাদা ইতিকাফ: রমজানের শেষ দশ দিনে করা হয়।
৩. নফল ইতিকাফ: যে কোনো সময় মসজিদে ইবাদতের নিয়তে অবস্থান করলেই নফল ইতিকাফ হয়ে যায়।

♦ইতিকাফের শর্ত:
© মুসলিম হওয়া,
© নাপাক না থাকা (জুনুব, হায়েজ বা নেফাস অবস্থায় না থাকা),
©নিয়তের সাথে মসজিদে অবস্থান করা,

♦ইতিকাফের স্থান:
© পুরুষদের জন্য: মসজিদে থাকতে হবে, যেখানে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়।
© নারীদের জন্য: নিজ ঘরের নির্দিষ্ট স্থানে ইতিকাফ করতে হবে (সেটি তাদের নামাজের নির্ধারিত স্থান হতে পারে)।
© বাইরে যাওয়া নিষেধ: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ বা নির্ধারিত স্থান ত্যাগ করা যাবে না।

✅ ইতিকাফ ভঙ্গের কারণসমূহ:
© মসজিদ বা নির্ধারিত স্থান বিনা কারণে ত্যাগ করা।
© ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করা।
© পাগল হয়ে যাওয়া বা ইহতিলাম হওয়ার পর গোসল না করা (জরুরি হলে দ্রুত গোসল করতে হবে)।
© ফরজ ইতিকাফের মান্নত করে তা পালন না করা।

♦ইতিকাফের আমল:
ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদতে মনোযোগী হওয়া ও আত্মশুদ্ধি অর্জন করা। নিচে ইতিকাফের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল দেওয়া হলো:

১. কুরআন তিলাওয়াত
* কুরআন বেশি বেশি পড়া এবং অর্থ ও তাফসির বোঝার চেষ্টা করা।
* হিফজ করা আয়াতগুলো পুনরাবৃত্তি করা।

২. নামাজ আদায়:
*পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা।

*বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া, যেমন তাহাজ্জুদ, চাশতের (দুহা), আওয়াবিন, তাসবিহর নামাজ ইত্যাদি।

৩. দোয়া ও ইস্তিগফার:
*আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করা, বিশেষ করে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

*বিশেষ দোয়া: اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني (হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, তাই আমাকে ক্ষমা করে দাও)।

৪. দরুদ ও জিকির
® নিয়মিত দরুদ শরিফ পাঠ করা।
® বিভিন্ন জিকির করা, যেমন:
* সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম
* লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ
* আস্তাগফিরুল্লাহ (গুনাহ মাফের জন্য)।

৫. ইসলামী জ্ঞান অর্জন
* হাদিস ও ইসলামিক বই পড়া।
* নবিজির (সা.) জীবনী জানা।
* দ্বীনি বিষয়ে চিন্তা করা ও নিজের আমল বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করা।

৬. আত্মসমালোচনা ও তওবা:
*নিজের জীবনের ভুলগুলো ভেবে দেখা এবং সেগুলো থেকে ফিরে আসার সংকল্প করা।

*আল্লাহর কাছে অতীতের পাপের জন্য তওবা করা এবং ভবিষ্যতে ভালো আমল করার প্রতিজ্ঞা করা।

৭. নীরবতা বজায় রাখা ও অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা
* অহেতুক কথা, তর্ক-বিতর্ক ও দুনিয়াবি আলোচনায় জড়ানো থেকে বিরত থাকা।
* গীবত, মিথ্যা ও বাজে কথাবার্তা থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।

🔹 উপসংহার:
ইতিকাফ আত্মশুদ্ধির একটি বড় মাধ্যম। ইতিকাফের সময় যতটা সম্ভব দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও ফিতনা-ফাসাদ থেকে দূরে থেকে একনিষ্ঠভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকা উচিত। এতে আত্মশুদ্ধি অর্জন হবে, আল্লাহর রহমত ও বরকত লাভ হবে, এবং আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট