যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি আর্থিক ইবাদত। নিম্নে যাকাতের খুঁটিনাটি দিকগুলো ব্যাখ্যা করা হলো—
১. যাকাতের সংজ্ঞা:
যাকাত অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা এবং কল্যাণ। শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী দরিদ্র ও নির্ধারিত শ্রেণির মানুষকে দান করাকে যাকাত বলা হয়।
২. যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত:
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হতে হবে—
• মুসলিম হওয়া – যাকাত কেবলমাত্র মুসলিমদের উপর ফরজ।
• বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়া – শিশুদের উপর যাকাত ফরজ নয়।
• আকিল (সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন) হওয়া – মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ নয়।
• সম্পদের মালিক হওয়া – নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।
• সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়া – ঋণ মুক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকতে হবে।
• এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া – সম্পদ এক চন্দ্রবছর ধরে থাকলে যাকাত দিতে হবে।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ:
যাকাত দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ হতে হবে—
• স্বর্ণের হিসাব: ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম)
• রুপার হিসাব: ৫২.৫ ভরি (৬১২.৩৬ গ্রাম)
• নগদ টাকা বা সম্পদ: রুপার মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।
৪. যাকাতের হার:
যাকাতের হার মোট সম্পদের ২.৫% (১/৪০ অংশ)।
৫. যাকাত যাদের দিতে হবে (আট শ্রেণি):
আল-কুরআনে (সূরা তওবা ৯:৬০) আট শ্রেণির লোকদের যাকাত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—
• ফকির (অত্যন্ত গরিব) – যাদের পর্যাপ্ত সম্পদ নেই।
• মিসকিন (অভাবগ্রস্ত) – যারা দিন চলে কিন্তু সঞ্চয় নেই।
• যাকাত আদায়কারী (আমিলীন আলাইহা) – যারা যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকে।
• নতুন মুসলিম (মুয়াল্লাফাতুল কুলুব) – যারা ইসলামে নতুন এসেছে এবং সহায়তা প্রয়োজন।
• দাস মুক্তির জন্য (রিকাব) – যারা দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য চায়।
• ঋণগ্রস্ত (গারেমিন) – যারা বৈধ কারণে ঋণগ্রস্ত।
• আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ) – ইসলামের জন্য সংগ্রামরত ব্যক্তিরা।
• মুসাফির (ইবনুস সাবিল) – পথিক, যারা ভ্রমণে অসহায় হয়ে পড়েছে।
৬. যাকাতের জন্য উপযুক্ত সম্পদ:
• স্বর্ণ-রুপা (গহনা, বার ইত্যাদি)
• নগদ টাকা ও ব্যাংক সঞ্চয়
• ব্যবসায়িক পণ্য
• কৃষিজ পণ্য (শস্য, ফলমূল)
• গবাদিপশু (গরু, ছাগল, উট ইত্যাদি)
• প্রাপ্ত ঋণ (যদি তা পাওয়া যায়)
৭. যাকাত দেওয়ার নিয়ম:
• নিয়ত করা আবশ্যক – যাকাত দেওয়ার সময় অন্তরে নিয়ত করতে হবে যে, এটি যাকাত হিসেবে দান করা হচ্ছে।
• গোপনে দেওয়া উত্তম – তবে অন্যদের উৎসাহিত করার জন্য প্রকাশ্যেও দেওয়া যায়।
• যোগ্য প্রাপকদের কাছে পৌঁছানো জরুরি – যারা যাকাত পাওয়ার যোগ্য, তাদের দেওয়া উত্তম।
৮. যাকাত না দিলে কী হবে?
যাকাত ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করলে কুরআন ও হাদিসের মতে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে। কেয়ামতের দিনে অবৈধভাবে জমাকৃত সম্পদ আগুনের আকার ধারণ করবে এবং মালিককে শাস্তি দেওয়া হবে (সূরা তওবা ৯:৩৪-৩৫)।
উপসংহার:
যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান যা সম্পদকে পবিত্র করে এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে। সঠিক নিয়মে যাকাত আদায় করলে ব্যক্তিগতভাবে বরকত হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড,
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯