1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন

যাকাতের খুঁটিনাটি : আতাউর রহমান

আতাউর রহমান | প্রধান প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ মার্চ, ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

যাকাত ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং এটি আর্থিক ইবাদত। নিম্নে যাকাতের খুঁটিনাটি দিকগুলো ব্যাখ্যা করা হলো—

১. যাকাতের সংজ্ঞা:
যাকাত অর্থ বৃদ্ধি, পবিত্রতা এবং কল্যাণ। শরিয়তের পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ থেকে নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী দরিদ্র ও নির্ধারিত শ্রেণির মানুষকে দান করাকে যাকাত বলা হয়।

২. যাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত:
যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হতে হবে—

• মুসলিম হওয়া – যাকাত কেবলমাত্র মুসলিমদের উপর ফরজ।

• বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হওয়া – শিশুদের উপর যাকাত ফরজ নয়।

• আকিল (সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন) হওয়া – মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ নয়।

• সম্পদের মালিক হওয়া – নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হবে।

• সম্পদ নিসাব পরিমাণ হওয়া – ঋণ মুক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর থাকতে হবে।

• এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া – সম্পদ এক চন্দ্রবছর ধরে থাকলে যাকাত দিতে হবে।

৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ:
যাকাত দেওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির সম্পদের পরিমাণ নির্দিষ্ট নিসাব পরিমাণ হতে হবে—

• স্বর্ণের হিসাব: ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম)

• রুপার হিসাব: ৫২.৫ ভরি (৬১২.৩৬ গ্রাম)

• নগদ টাকা বা সম্পদ: রুপার মূল্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়।

৪. যাকাতের হার:
যাকাতের হার মোট সম্পদের ২.৫% (১/৪০ অংশ)।

৫. যাকাত যাদের দিতে হবে (আট শ্রেণি):

আল-কুরআনে (সূরা তওবা ৯:৬০) আট শ্রেণির লোকদের যাকাত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে—

• ফকির (অত্যন্ত গরিব) – যাদের পর্যাপ্ত সম্পদ নেই।

• মিসকিন (অভাবগ্রস্ত) – যারা দিন চলে কিন্তু সঞ্চয় নেই।

• যাকাত আদায়কারী (আমিলীন আলাইহা) – যারা যাকাত সংগ্রহ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকে।

• নতুন মুসলিম (মুয়াল্লাফাতুল কুলুব) – যারা ইসলামে নতুন এসেছে এবং সহায়তা প্রয়োজন।

• দাস মুক্তির জন্য (রিকাব) – যারা দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য সাহায্য চায়।

• ঋণগ্রস্ত (গারেমিন) – যারা বৈধ কারণে ঋণগ্রস্ত।

• আল্লাহর পথে (ফি সাবিলিল্লাহ) – ইসলামের জন্য সংগ্রামরত ব্যক্তিরা।

• মুসাফির (ইবনুস সাবিল) – পথিক, যারা ভ্রমণে অসহায় হয়ে পড়েছে।

৬. যাকাতের জন্য উপযুক্ত সম্পদ:
• স্বর্ণ-রুপা (গহনা, বার ইত্যাদি)
• নগদ টাকা ও ব্যাংক সঞ্চয়
• ব্যবসায়িক পণ্য
• কৃষিজ পণ্য (শস্য, ফলমূল)
• গবাদিপশু (গরু, ছাগল, উট ইত্যাদি)
• প্রাপ্ত ঋণ (যদি তা পাওয়া যায়)

৭. যাকাত দেওয়ার নিয়ম:
• নিয়ত করা আবশ্যক – যাকাত দেওয়ার সময় অন্তরে নিয়ত করতে হবে যে, এটি যাকাত হিসেবে দান করা হচ্ছে।

• গোপনে দেওয়া উত্তম – তবে অন্যদের উৎসাহিত করার জন্য প্রকাশ্যেও দেওয়া যায়।

• যোগ্য প্রাপকদের কাছে পৌঁছানো জরুরি – যারা যাকাত পাওয়ার যোগ্য, তাদের দেওয়া উত্তম।

৮. যাকাত না দিলে কী হবে?
যাকাত ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করলে কুরআন ও হাদিসের মতে কঠোর শাস্তি নির্ধারিত আছে। কেয়ামতের দিনে অবৈধভাবে জমাকৃত সম্পদ আগুনের আকার ধারণ করবে এবং মালিককে শাস্তি দেওয়া হবে (সূরা তওবা ৯:৩৪-৩৫)।

উপসংহার:
যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান যা সম্পদকে পবিত্র করে এবং দরিদ্রদের সহায়তা করে। সঠিক নিয়মে যাকাত আদায় করলে ব্যক্তিগতভাবে বরকত হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট