1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন

নতুন ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ : নতুন কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে বেরিয়ে আসা সাবেক সমন্বয়কদের নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ নামের সংগঠন।গঠিত নতুন ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে নতুন ছাত্রসংগঠনের নাম ঘোষণার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ও ঢাবির কমিটি ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা, ঐক্য, মুক্তি এই তিন মূলনীতিকে ধারণ করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদ আহসান। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম। সিনিয়র সদস্যসচিব রিফাত রশীদ, মুখ্য সংগঠক তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী। সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আশরেফা খাতুন।

এছাড়া ঢাবি কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন আব্দুল কাদের ও সদস্য সচিব হয়েছেন মহির আলম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক লিমন মাহমুদ হাসান, সিনিয়র সদস্য সচিব আল আমিন সরকার ও মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম। ঢাবি কমিটিতে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন রাফিয়া রেহনুমা হৃদি।

এর আগে চলতি মাসের ১৭ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন ছাত্র সংগঠন প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার। সংগঠনটির স্লোগান হবে স্টুডেন্টস ফার্স্ট, বাংলাদেশ ফার্স্ট’।

এদিকে গঠিত নতুন ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, আন্দোলনে যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে গিয়েছিল, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই সেই আন্দোলনকে এক দফায় পরিণত করে। কিন্তু নতুন সংগঠনের কমিটিতে ঢাবি শিক্ষার্থীরাই পদ ভাগাভাগি করেছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে আটটায় কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে হাতাহাতি এবং মারামারির প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এসব কথা বলেন।

তরিকুল ইসলাম নাহিদ নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, গত ১৭ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার ভয়ে লেজ গুটিয়ে ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে গিয়েছিল, তখন যারা তাদের তুলে এনেছিল এবং আন্দোলনকে এক দফায় পরিণত করেছিল, তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু আজকে নতুন ছাত্র সংগঠনের কমিটিতে কোনো বেসরকারি শিক্ষার্থীকেই রাখা হয়নি। আজকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ কর্মসূচি জানাতে আমরা মধুরক্যান্টিনে যাই, সেইসময় কতিপয় শিক্ষার্থী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমাদের অনেকেই আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর আমরা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তো এবং একটু সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম। সেই প্রত্যয় নিয়ে আজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ইতিহাস গড়তে পারতো। কিন্তু তারা আজকে কমিটি প্রকাশের মাধ্যমে ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করেছে।

নাহিদ বলেন, তারা সংগঠনের নাম দিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, তাদের এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আমরা কেউ বাংলাদেশকে দেখতে পাই না। আমরা শুধু এই সংগঠনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেই দেখতে পেয়েছি। আমরা দেখছি কমিটির সুপার সিক্সের ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের, বাকি একজন সম্ভবত জাহাঙ্গীরনগরের। এই কমিটিতে প্রাইভেট নেই, জগন্নাথ নেই, কোনো মাদ্রাসাও নেই।

হাতাহাতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা তো মারামারি বা মার খেতে যাইনি। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম আন্দোলনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেক চাইতে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাধান্য দিয়ে যে কমিটি ঘোষণা হয়েছে, আমরা সেটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। একইসঙ্গে জানিয়ে দিচ্ছি, তাদের এই কমিটিতে কোনো পদেই আমরা আর অংশগ্রহণ করবো না।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে আমরা কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হতে চাই না। এমনকি এই ঢাবি সিন্ডিকেটকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা না চাইবে এবং কমিটি পুনর্গঠন না করবে, তাদের কোনো কর্মসূচিতেও আমরা আর অংশগ্রহণ করবো না।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট